আইএস এর অপহরণ , তালেবানের উদ্ধার

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২৭, ২০১৫ সময়ঃ ৩:১৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৫০ অপরাহ্ণ

_87083890_nabiফেব্রুয়ারিতে রাজধানীতে কাজ খুজতে যাবার সময় বাস থেকে ২৫ বছর বয়স্ক নির্মাণশ্রমিক নবীসহ আরো কয়েকজনকে অপহরণ করা হয়। ঘটনাটি ঘটে আফগানিস্তানের জাবুল প্রদেশে। অপহৃত হবার নয় মাস পর উদ্ধার পাওয়া এক তরুণ তার কাহিনি তুলে ধরছেন গণমাধ্যমের কাছে ।

নবী নামের ঐ তরুণসহ বেশ কয়েকজনকে আইএস জিম্মি করে এবং একপর্যায়ে তালেবানরা তাদের মুক্ত করে। তার গল্প থেকে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের কর্মকাণ্ড বিষয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। কালো মুখোশ পড়া বন্দুকধারীরা যাত্রীদের মধ্য থেকে সংখ্যালঘু শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের ৩০ জনকে আলাদা করে এবং তাদের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে এই অপহরণের পেছনে তালেবানরা রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই নবী এবং অন্যান্য জিম্মিরা জানতে পারে যে তাদের অপহরণকারীরা ইসলামিক স্টেটের সদস্য।

নবী বলেছেন, “তারা চাইছিল আমাদের বিনিময়ে আফগান সরকারের হাতে তাদের বন্দী নারী এবং শিশুদের মুক্ত করতে”।
অপহরণকারীরা জানায় যে তারা পার্শ্ববর্তী উজবেকিস্তান থেকে জিহাদে অংশ নেয়ার জন্যে এসেছে ।

এরপর অপহরণকারীরা জিম্মিদের ভিডিওচিত্র ধারণ করে এবং কিছুদিন পর তাদের দুটি দলে ভাগ করে। নবী এবং তার দলকে একটি পশুর খামারে আটকে রাখা হয়।

নবী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, “আমাদের চোখ বেঁধে রাখা হয় এবং হাতও পিছমোড়া করে বাঁধা থাকতো । কিন্তু আমাদের কান খোলা ছিল, আমরা বুঝতে পারছিলাম কোন আবাসিক এলাকায় আমাদের আটকে রাখা হয়েছে কারণ আমরা নারী ও শিশুদের গলার স্বর শুনতাম এবং আজানও শুনতে পেতাম”।

প্রথমদিকে সরকারী বাহিনীও তাদেরকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েছিল বলে জানান নবী, “আমাদের মাথার উপর হেলিকপ্টার উড়ছিল, গুলির শব্দও পরিষ্কার শুনতে পারছিলাম।”

যদিও সরকার বলেছে, অপহরণকারীরা বারবার স্থান পরিবর্তন করায় তারা সফল হতে পারেনি, কিন্তু নবী জানিয়েছেন নয় মা_86989490_fbe2566b-32d5-4104-87dc-f5314294778bসে তাদের মাত্র চারবার স্থানান্তর করা হয়েছিল। উদ্ধারকৃত জিম্মিরা জানিয়েছে তাদের নিয়মিত নৃশংসভাবে নির্যাতন করা হতো এবং একপর্যায়ে একজন জিম্মিকে শিরচ্ছেদও করা হয়।

সেই সময়ের বিবৃতি দিতে গিয়ে নবী উল্লেখ করেন, “আল্লাহ ছাড়া সবার ওপর থেকে আমরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলাম”।

শেষপর্যন্ত স্থানীয় তালিবানরা আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলা চালানোর পরই জিম্মিদের মুক্তি ঘটে। জিম্মিদের চোখ বাঁধা অবস্থাতেই ভিন্ন একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তারা প্রবল গোলাগুলির শব্দ শুনতে পায়। তিনদিন পর পাশতো ভাষায় কথা বলতে বলতে কিছু সশস্ত্র লোক ঐ বাড়িতে উপস্থিত হয়।

“যখন চোখের কাপড় খোলা হয়, তখন আমি সামনে বিশালাকৃতির দাড়িওয়ালা এক লোককে দাড়িয়ে থাকতে দেখি,” বলেন নবী। “আমি বুঝতে পারি যে এরা তালেবান এবং কিছুটা আস্বস্ত হই।”
তারপর জিম্মিদের স্থানীয় তালেবান কমান্ডারের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নবী বলেছেন, “চার থেকে পাঁচ’শ মানুষ আমাদের অভিনন্দন জানায়, কমান্ডার আমাদের আলিঙ্গন করতে নিষেধ করেন কারণ দাড়ানোর মতো শক্তিও আমাদের ছিল না।”
তিনি আরো বলেন, “উজবেক যোদ্ধা এবং তাদের পরিবার প্রাণপণে যুদ্ধ করে। শেষপর্যন্ত তাদের কয়েকজন নিহত হয় এবং অনেকে আটকও হয়।”

এখন কাবুলে বাবা-মা, তিন ভাই এবং দুই বোনের কাছে ফিরে এসেছে নবী। তবে এখনো পুরো ধাক্কা সে কাটিয়ে উঠতে পারেনি। নির্যাতনের কারণে তার কিডনিও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

প্রতিক্ষণ/এডি/জেবিএম

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

April 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
20G